বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের সদ্য সাবেক মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা গতকাল মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদের বিরুদ্ধে গণভোটের অর্থ তছরুপের অভিযোগ তুলেছেন। এর জবাবে রিফাত রশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এবং দাবি করেন যে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সংগঠনকে ৫ কোটি টাকা অনুদান দিতে সম্মত হয়েছিলেন।
রিফাত রশিদ জানান, গণভোটের ক্যাম্পেইনকে সামনে রেখে ১৫ দিনব্যাপী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ৫ কোটি টাকা প্রদানের বিষয়ে চুক্তি সম্পাদিত হয়। তবে ভোটের আগে সময়স্বল্পতার কারণে রেজিস্টার্ড “সেড ফাউন্ডেশন”কে ৭ দিনের প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংক নন-রেজিস্টার্ড কোনো সংগঠনকে অনুদান দিতে পারে না বলে জরুরি ভিত্তিতে একটি ফাউন্ডেশন গঠন করতে হয়।
এত বড় অঙ্কের ফান্ড একটি নতুন রেজিস্টার্ড সংগঠনে প্রদান খুবই অস্বাভাবিক বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের।
রিফাত রশিদের দাবি অনুসারে, ইউনূসের সরকার রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ ব্যবহার করে সেড ফাউন্ডেশনসহ আরও অনেক ফাউন্ডেশনকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য অনুদান দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশন আইন জারি করে সরকারি সংস্থাগুলোকে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো নির্বাচনী আইন পরিপন্থী বলে নির্দেশ দিলেও, রাষ্ট্রীয় অর্থে নিরপেক্ষ গণভোটে একটি নির্দিষ্ট মার্কার প্রচারণায় অর্থ ব্যয় করা হয়েছে যা নির্বাচনী আইন পরিপন্থী।
এভাবে আরও কতভাবে ড. ইউনূস ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর রাষ্ট্রের আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে শুধু ক্ষমতার জোরে গোপনে যা ইচ্ছা তাই করেছেন, তার অনেক কিছুই জনগণের অজানা।
রিফাত রশিদের বিরুদ্ধে তারই সংগঠনের সহকর্মীর অভিযোগ না উঠলে দেশবাসী জানতেই পারত না যে, জনগণের করের টাকায় গভর্নর ও ড. ইউনূস নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দিয়ে গেছেন।
এদিকে সিনথিয়া জাহিন আয়েশাসহ অন্য নেতারা রিফাত রশিদসহ তিন নেতার বিরুদ্ধে অনুদানের তথ্য গোপন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তদন্ত দাবি করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
একইসাথে বিভিন্ন তথ্য উপাত্তে উঠে আসছে ইউনূস ও আহসান মনসুরের ক্ষমতার অপব্যাবহার, রাষ্ট্রীয় কোষাগার ও জনগণের করের টাকার যথেচ্ছেচার অপচয়, আর দুর্নীতি ও লুটপাটের মহোৎসব।






