দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন্সের প্রাকৃতিক অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিয়ে ইউনূস সরকারের মতো একই অবস্থানে রয়েছে বিএনপি সরকার। পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের নাম করে বছরে মাত্র ৩ মাস পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
দ্বীপের হাজার হাজার মানুষের জীবিকার প্রধানতম খাত পর্যটন শিল্প, মাত্র তিন মাসে সীমিত সংখ্যক পর্যটকের ওপর নির্ভর করে পুরো বছরের খোরাকির যোগান সংগ্রহ করতে হবে তাদের- এমন দুশ্চিন্তা ও ক্ষোভে ফুঁসছেন অধিবাসীরা।
আর সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন- আসলে কী ঘটছে সেন্ট মার্টিন্সকে কেন্দ্র করে? প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা যেসব শংকার কথা বলে গিয়েছিলেন, তা কি বাস্তবে ঘটতে শুরু করেছে? এমন শঙ্কা জনমনে।
গতকাল এক সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিন্সের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প নেই।
মন্ত্রী দাবি করেন, সরেজমিনে পরিচালিত বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, বছরে ৯ মাস পর্যটন বন্ধ রাখার ফলে দ্বীপটির পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দীর্ঘ এই বিরতিতে প্রকৃতি নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পায়।
সেন্ট মার্টিন্সের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তিন মাসের বেশি সময় পর্যটন চালু থাকলে উন্মুক্ত সাগরের বুকে বাংলাদেশের এই প্রবাল দ্বীপটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। এটি দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জাতীয় গর্ব—তাই এর সুরক্ষায় এই নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা জরুরি।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে সেন্ট মার্টিনের প্রবাল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য যে হারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ তা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বার্থের ভারসাম্য রক্ষায় এই কঠোর পদক্ষেপ সময়োপযোগী বলেও মনে করছে মন্ত্রণালয়।






