বিএনপি সরকার গঠনের পর দুই মাসে ৬০টি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সময়ে ইশতেহার অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হলেও ফলাফল কতটা ইতিবাচক তা মূল্যায়নে অপেক্ষা করতে হবে। তবে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য, দলীয় কোন্দল ও মব নিয়ন্ত্রণই মূল চ্যালেঞ্জ বলছেন, বিশ্লেষক।
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে পাঁচ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে নির্বাচনী বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জোর দেয় সরকার। এরইমধ্যে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচিসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথম দুই মাসে নিজেদের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিগুলোর অনেক কাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। গণতন্ত্রের ভিত ঠিক থাকলে আগামীতে আরও উন্নয়নের লক্ষ্য সরকারের। বলেন, ‘দুমাসের মধ্যেই তো আর সব কাজ দৃশ্যমান হবে না। অপেক্ষা করতে হবে। গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী করার মাধ্যমে আমাদের ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর কাজ-কর্ম, বক্তব্য ও কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।’ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারের কাজ শুরুকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তবে ফলাফল বুঝতে আরও সময় প্রয়োজন। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানার পাশাপাশি দলীয় কোন্দল ও মব নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিতে তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জনপ্রত্যাশা পূরণে ম্যানিফেস্টোকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি আগে কখনওই ছিল না বাংলাদেশে। আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, নির্বাচনের সময় বিএনপি যে ম্যানিফেস্টো দিয়েছিল সে অনুযায়ী তারা কাজ করছে। সরকারের সাফল্য রক্ষায় ক্ষমতা কাঠামোর পুনর্গঠনে পলিটিক্যাল রিঅ্যালাইনমেন্ট দরকার।’
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন আর বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সরকারকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার নির্বাচনে হতে হবে কৌশলী।






