চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই থেকে মার্চ) রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২১শে এপ্রিল, মঙ্গলবার এনবিআরের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, আলোচ্য সময়ে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। কিন্তু এই সময়ে আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা।
রাজস্ব আদায়ের প্রধান তিনটি খাত—আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং আয়কর—কোনোটিতেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে আয়কর খাতে। এই খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৯৮ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। ফলে এই খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা।
আমদানি শুল্ক খাতেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। এ খাতে নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা, যেখানে আদায় হয়েছে ৮০ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। এতে ঘাটতি হয়েছে ২২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, ভ্যাট খাতেও বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। এই খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। ফলে ভ্যাট খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলেও সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। সেই তুলনায় এবার ১১.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা রাজস্ব সংগ্রহে ধীরগতির উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে, শুধু মার্চ মাসের হিসাবেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ হাজার ৫০ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ৩৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। ফলে এক মাসেই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। তবে এই মাসেও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব আদায়ে ধারাবাহিক ঘাটতি দেশের বাজেট বাস্তবায়ন, উন্নয়ন ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কার ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা।






