ঘর সংস্কার মানেই অনেক সময় ভাঙচুর, নতুন করে সাজানো আর বাড়তি পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হওয়া।
তবে একটু পরিকল্পনা করলেই এই প্রক্রিয়াকে অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব।
তাই বিশেষজ্ঞরা জানান, সংস্কারের আগে কী রাখা উচিত আর কী বাদ দেওয়া উচিত।
পরিকল্পনাই বাঁচাবে অর্থ ও পরিবেশ
অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন বলেন, “নির্মাণ বর্জ্যের একটি বড় অংশই আসে ভুল পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত থেকে। সংস্কারের শুরুতেই যদি সঠিকভাবে ভাবা যায় কোন জিনিস রাখা যাবে, কোনটি পুনর্ব্যবহার করা যাবে, তাহলে অপ্রয়োজনীয় খরচ ও অপচয় অনেকটাই কমানো সম্ভব।”
অর্থাৎ সংস্কারের আগে একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা থাকা জরুরি। বাড়ির মূল কাঠামো ও চরিত্র বুঝে সিদ্ধান্ত নিলে তা দীর্ঘদিন টেকসই হয়। বারবার পরিবর্তনেরও প্রয়োজন পড়ে না।
আলমারি: ফেলে না দিয়ে নতুন রূপ দেওয়া
“বাড়ির আলমারি বা কেবিনেট এমন একটি অংশ, যা খুব সহজেই পুনর্ব্যবহার করা যায়। পুরো আলমারি বদলানোর পরিবর্তে শুধু দরজা বা ড্রয়ারের অংশ পরিবর্তন করলেই অনেক সময় নতুনের মতো দেখায়”- বলেন গুলশান নাসরিন।
পুরানো আলমারি অন্য জায়গায় ব্যবহার করা যায়, যেমন- ছোট রান্নাঘর, খেলাঘর বা সংরক্ষণ কক্ষ। যদি একেবারেই ব্যবহারযোগ্য না হয়, তখন তা পুনর্ব্যবহার অনলাইনে দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা যায়।
তবে অনেক আধুনিক আলমারি এমন উপাদানে তৈরি, যা পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয়। তাই নতুন কেনার সময় দীর্ঘস্থায়ী উপকরণ বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
রান্নাঘরের কাজের টেবিল: বদল নয়, মানিয়ে নেওয়া
রান্নাঘরের টেবিল বা কাউন্টারটপ পুরানো মনে হলে তা ফেলে দেওয়া উচিত নয়। তবে ডিজাইনের সামান্য পরিবর্তনেই পুলানো টেবিল নতুনভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়।
“রংয়ের সামঞ্জস্য, পালিশ বা হালকা সংস্কার করলে এটি আবার ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে। কাঠের তৈরি টেবিল হলে ঘষে পরিষ্কার করে তেল বা প্রলেপ দিলে দীর্ঘদিন ভালো থাকে”- পরামর্শ দেন গুলশান নাসরিন।
তিনি আরও বলেন, “যদি ব্যবহার না করা হয়, তবে এই টেবিল ছোট আকারে কেটে অন্য জায়গায় ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন বাথরুম বা সংরক্ষণ কক্ষে।”
বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি: মেরামতই সমাধান
বাড়ির যন্ত্রপাতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় দ্রুত বদলে ফেলার সিদ্ধান্তে। যন্ত্রপাতি ঠিক করা গেলে তা আরও কয়েক বছর ব্যবহার করা যায়।
এই অন্দরসজ্জাবিদের মতে, “নতুন কেনার আগে অবশ্যই মেরামতের সম্ভাবনা যাচাই করা উচিত। এতে খরচ যেমন কমে, তেমনি পরিবেশের ওপর চাপও কম পড়ে।”
তবে যন্ত্রটি যদি খুব পুরানো হয় বা মেরামতের খরচ বেশি হয়, তখন নতুন শক্তি-সাশ্রয়ী যন্ত্র নেওয়াই ভালো সিদ্ধান্ত।
মেঝে: পুরানো কাঠেই লুকিয়ে সৌন্দর্য
মেঝের ক্ষেত্রে কাঠের ব্যবহার সবচেয়ে টেকসই হিসেবে বিবেচিত হয়। পুরানো কাঠের মেঝে ঘষে ও পালিশ করে একাধিকবার ব্যবহার করা যায়। কারণ কাঠ এমন একটি উপাদান যা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব।
যদি মেঝে খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন বিকল্প হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী উপকরণ বেছে নেওয়া উচিত। তাই নতুন উপকরণ কেনার সময় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উপাদানকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
দরজা ও জানালা: ছোট পরিবর্তনেই নতুন রূপ
দরজা ও জানালার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ পরিবর্তনের আগে ছোটখাটো পরিবর্তন অনেক সময় যথেষ্ট হয়। যেমন- ফাঁক বন্ধ করা বা নিরোধক যুক্ত করা। এতে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বিদ্যুৎ খরচও কমে।
তাই সবসময় নতুন বসানোর প্রয়োজন নেই; বরং যে কাঠামো আছে উন্নত করলেই অনেক সময় ভালো ফল পাওয়া যায়।
তবে খুব পুরানো বা অকার্যকর হলে নতুন, শক্তি-সাশ্রয়ী জানালা ও দরজা ব্যবহার করা উচিত।
রং ও টাইলস: সচেতন ব্যবহার
টাইলস সাধারণত খুলে পুনর্ব্যবহার করা কঠিন। তাই নতুন বসানোর সময় অতিরিক্ত কেনা হলে তা সংরক্ষণ বা অন্যকে দেওয়া যেতে পারে। এতে অপচয় কমে।
রংয়ের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বিকল্প বেছে নেওয়া জরুরি। অনেক রংয়ে এমন উপাদান থাকে যা বাতাস দূষণ করতে পারে। তাই স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিবেচনায় নিরাপদ রং ব্যবহার করা উচিত।