ইসরায়েলে সামরিক অভিযান পরিচালনার হুমকি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। শনিবার এক অনুষ্ঠানে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় যদি পাকিস্তান না থাকত, তাহলে ইসরায়েলকে তার উপযুক্ত শিক্ষা দিতাম।’ এ সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘রক্ত ও ঘৃণায় অন্ধ’ বলেও অভিহিত করেন তিনি। এরদোয়ানের এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে এরদোয়ান বলেন, ‘আমরা যেভাবে লিবিয়া এবং কারাবাখে প্রবেশ করেছিলাম, একইভাবে আমরা ইসরায়েলেও প্রবেশ করতে পারি।’
এর আগে, গাজাগামী সুমুদ ফ্লোটিলা অবরোধের অভিযোগে গত শুক্রবার তুরস্ক নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছে। গত বছরের অক্টোবরে ত্রাণ নিয়ে জাহাজটি গাজায় যাচ্ছিল। অভিযুক্তদের এর জন্য ৪ হাজার ৫৯৬ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড চাওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর নেতানিয়াহু তুরস্কের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তিনি সে সময় বলেন, ‘ইসরায়েল ইরানের সন্ত্রাসী শাসন ও তাদের প্রক্সির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে, এরদোয়ানের মতো নয়, যিনি তাদের আশ্রয় দেন এবং নিজের কুর্দি নাগরিকদের ওপর গণহত্যা চালান।’ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও তুরস্কের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ আনেন। এরদোয়ানকে নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর এর প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতি দেয় তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে নেতানিয়াহুকে ‘বর্তমান সময়ের হিটলার’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নেতানিয়াহু, যাকে এ সময়ের হিটলার হিসেবে অভিহিত করা হয়, তিনি এমন একজন ব্যক্তি যার পরিচয় ও কর্মকাণ্ড সবার জানা। যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।’ গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই এর কঠোর সমালোচনা করে আসছে তুরস্ক। এই আগ্রাসনকে গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করে ২০২৪ সালে ইসরায়েলের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছিল তুরস্ক। এর ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ব্যাপক ধস নামে।
এরদোয়ান এবং নেতানিয়াহু, দুজনের সঙ্গেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। তুরস্ক সম্প্রতি গ্রিস, সাইপ্রাস এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, সিরিয়াতেও তাদের প্রভাব বেশ শক্তিশালী হচ্ছে। এর ফলে এই অঞ্চলে ইসরায়েলের প্রভাব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।






