স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
জ্বালানি তেলের সংকটে যখন সারাদেশ ধুঁকছে, ঠিক সেসময় ভোজ্যতেলের বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। সরকারের উদাসীনতায় কিছু সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে আমদানিকারক ও পরিশোধনকারী বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও সরবরাহ কমিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ডলার সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় বাজারে মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার মতো যৌক্তিক কারণ নেই। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নিজেই বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। তবে বাস্তবে বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা গেছে। দোকানে গিয়ে তেল পাচ্ছেন না অনেকে। পেলেও দাম রাখা হচ্ছে বেশি। পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে সয়াবিন তেল প্রতি লিটারে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি মানা হচ্ছে না বোতলের গায়ে মুদ্রিত এমআরপি রেট-এর সীমাও। অনেক জায়গায় বোতলের ওপর দামের অংশটি কালি দিয়ে মুছে দিয়ে বিক্রি করতে দেখা গেছে। বেসরকারি ভোক্তা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) জানিয়েছে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ১৭০ টাকা হলেও বাজারে তা ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দামও নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতার মূল কারণ সরবরাহ চেইনে সিন্ডিকেটের প্রভাব। শীর্ষ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমদানি, পরিশোধন ও বিপণন ব্যবস্থার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করায় ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে বোতলজাত তেলের সংকট তৈরি হয়ে খোলা তেলের ওপর চাপ বাড়ছে এবং দাম বেড়ে যাচ্ছে। ব্যবসাীরা জানান, ঈদের পর সরবরাহে ঘাটতি, ডিলার পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট এবং সিন্ডিকেটের প্রভাব মিলিয়ে বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। বোতলজাত তেল কমে যাওয়ায় খোলা তেলের চাহিদা বেড়েছে এবং এতে দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আরও দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরবরাহ সীমিত করে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, দুর্বল তদারকির সুযোগে বাজারে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সরকার নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি নিশ্চিত করা, সিন্ডিকেট চক্রকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া, মজুদদারির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো এবং অস্বাস্থ্যকর ড্রামে তেল বিক্রি বন্ধ করা। এদিকে চট্টগ্রামে র্যাব অভিযান চালিয়ে ২২ হাজার ৬৪২ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে এবং দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধ মজুদদারির ঘটনাও ধরা পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা তেল কিনছেন। ঈদের পর থেকেই অসাধু চক্র দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি শীর্ষ ভোজ্যতেল কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার অস্থির করার অভিযোগ সঠিক নয়। তাদের দাবি, বৈশ্বিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়তে পারে, তবে তারা সরকার নির্ধারিত দামে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খান জানান, বাজারে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।






