ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরায়েলের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে। ইরানে বড় ধরনের হামলা হতে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় থেমেছে দু পক্ষই। তবে এই যুদ্ধে উভয় পক্ষই জয়ী হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এনডিটিভি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তের এক সমঝোতায় তেহরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করবে। আর তেহরানও জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের হামলা বন্ধ করে, তবে ইরানও দুই সপ্তাহের জন্য তার ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ স্থগিত করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতীতে পারমাণবিক আলোচনায় অভিজ্ঞ আরাঘচি বলেন, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের সামরিক বাহিনী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের সমন্বয় করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই পথের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
ইরানের বিজয় দাবি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধে তেহরান বিজয় দাবি করেছে এবং বলেছে, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ১০ দফা পরিকল্পনা মেনে নিতে বাধ্য করেছে, যার মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়া। এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়া এবং সমস্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রয়োজন হবে। পাকিস্তানে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দেওয়া এই প্রস্তাবে অন্যান্য প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে– মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রত্যাহার, ইরান ও তার মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ করা, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্তি এবং যেকোনো চুক্তিকে বাধ্যতামূলক করার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি উল্লেখ্য যে, এই ধরনের একটি প্রস্তাব গৃহীত হলে এই সমস্ত চুক্তি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বাধ্যতামূলক হয়ে উঠবে এবং এটি ইরানি জাতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে গণ্য হবে। গুরুত্বপূর্ণভাবে এই পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রণালিটি বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের একটি পথ, যা পাঁচ সপ্তাহব্যাপী সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সামুদ্রিক যান চলাচলের জন্য কার্যত অবরুদ্ধ রয়েছে।
জয় দাবি ট্রাম্পেরও
ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের কাছ থেকে একটি ‘কার্যকর’ ১০-দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পেয়েছেন। তিনি বলেন, এই প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই সমস্ত সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছে এবং তা অতিক্রমও করেছে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বিষয়ক একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে যুক্তরাষ্ট্র অনেক দূর এগিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে যেখানে তারা আমাকে ইরানের দিকে পাঠানো ধ্বংসাত্মক শক্তি স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ, অবিলম্বে এবং নিরাপদ উন্মোচনে সম্মত হওয়ার শর্তে আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ স্থগিত করতে সম্মত হচ্ছি। এটি একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি হবে! তিনি বলেন, এর কারণ হলো, আমরা ইতোমধ্যে সমস্ত সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছি এবং তা অতিক্রমও করেছি, এবং ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বিষয়ক একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। আমরা ইরানের কাছ থেকে একটি ১০-দফা প্রস্তাব পেয়েছি এবং বিশ্বাস করি যে এটি আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি। ট্রাম্প বলেন, ইরান অতীতের প্রায় সমস্ত বিবাদের বিভিন্ন বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং এই মেয়াদ বৃদ্ধি একটি স্থায়ী চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য সময় দেবে।
প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অতীতের প্রায় সকল বিরোধপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তবে দুই সপ্তাহের একটি সময় এই চুক্তিটিকে চূড়ান্ত ও কার্যকর করার সুযোগ দেবে।






