মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে শাকসবজিসহ কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। রপ্তানিকারকরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিসহ সৃষ্টি হচ্ছে নানা অনিশ্চয়তা। সংকট দীর্ঘ হলে চাপে পড়বে রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ, শঙ্কা বিশ্লেষকদের।
ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বাংলাদেশের এ পর্যন্ত আট শ-র মতো ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফলে দেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্য পাঠাতে বিলম্বসহ নানা অনিশ্চয়তায় বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
মধ্যপ্রাচ্যে ফল ও সবজি রপ্তানিকারক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমাদের যে অবস্থাটা দাঁড়াচ্ছে যে আসলে ব্যবসাটা একরকম বন্ধই হয়ে আছে। এক্সপোর্টের যে পরিমাণ, ধরুন, আমি এক্সপোর্ট সপ্তাহে ৭০ টন, এখন সেখানে আমার এক্সপোর্ট হচ্ছে মাত্র ২০ টন, ১৫ টন, ২৫ টন…গড়ে এরকম। এবং এটা অনেক উচ্চ ভাড়ায় বিমান দিয়ে পাঠাতে হয়।’
এদিকে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানির খরচও বেড়েছে কয়েকগুণ। এতে বেশি বিপদে আছেন ছোট ও মাঝারি রপ্তানিকারকরা। যার প্রভাব পড়বে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি, বলছেন অর্থনীতিবিদরা।
সিপিডি-র গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাণিজ্য বা সংশ্লিষ্ট যাঁরা মন্ত্রী রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে আলাপ করতে পারেন। অ্যাসোসিয়েশনগুলো ওই সমস্ত দেশগুলোর অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে দেখতে পারেন, চুক্তিগুলো যাতে কন্টিনিউ করে, এটা যাতে বন্ধ না হয়।’
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি – এই আট মাসে মধ্যপ্রাচ্যে ২২ কোটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।






