হরমুজ প্রণালীতে ইরানের টোল আরোপ ও জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন আঙ্গিকে চাপ সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নেওয়া এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক আইনি বিতর্কও জোরালো হচ্ছে। নির্দিষ্ট দেশকে অনুমতি দেওয়ায় উঠছে বৈষম্যের অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে এবার আরেক গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালীতেও অবরোধের হুমকি দিয়েছে তেহরান।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে ইরান। বৃহস্পতিবার ইরানি গণমাধ্যম জানায়, জাহাজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টোল আদায়ের জন্য দেশটির সংসদ আইন পাসের উদ্যোগ নিয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধের খরচ ও প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই টোল নেওয়া হবে। ইরানের মতে এটি আন্তর্জাতিক করিডোরগুলোর মতোই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবেও এ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইছে ইরান।
তবে আইন পাসের আগেই আইআরজিসি একটি অনানুষ্ঠানিক টোল বুথ চালু করেছে। যার মাধ্যমে জাহাজকে সব তথ্য জমা দিয়ে আগে অনুমতি নিতে হয়। যাচাই শেষে দেওয়া হয় একটি ক্লিয়ারেন্স কোড। ইরানি নৌবাহিনী সেই জাহাজকে নির্দিষ্ট পথে নিরাপদে এগিয়ে দেয়। অনুমতি না পেলে কোনো জাহাজকে প্রণালীতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
কিছু ক্ষেত্রে একটি জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা। তবে সব দেশের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ইরানের বন্ধু দেশগুলোর কিছু জাহাজকে পার হতে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমুদ্র আইন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব দেশের জাহাজের অবাধ চলাচলের অধিকার রয়েছে। তবে ইরান দাবি করছে, তাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এই নিয়ন্ত্রণ বৈধ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপ ও চলাচল সীমিত করা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। সেই সাথে নির্দিষ্ট দেশকে অনুমতি দেওয়া বৈষম্যমূলক বলেও মত রয়েছে। বর্তমানে প্রণালীর দুই পাশে প্রায় ২ হাজার জাহাজ অপেক্ষা করছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালীর পর এবার আরেক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের হুমকি দিয়েছে ইরান। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং সুয়েজ খালগামী নৌযান চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মধ্যপ্রাচ্যের উপকূলীয় তেলক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত প্রায় ১২ শতাংশ তেল এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।






