স্থানীয় সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরের বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে আগুন লাগিয়ে বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ৫টি সংখ্যালঘু পরিবারকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাউজান সদরের পৃথক দুটি ওয়ার্ডের পাঁচটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে ১৯শে ডিসেম্বর, শুক্রবার গভীর রাতে রাউজান পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। ভুক্তভোগীরা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ঘরে আগুন দেওয়া হয়। এতে একটি বাড়ি পুড়ে গেলেও কেউ হতাহত হননি। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে পুলিশ।
জানা যায়, ভোরে রাউজান সদরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেউটিয়া গ্রামের লখিন্দর মাঝির বাড়ির সাধন বড়ুয়ার ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। অন্যদিকে একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেউটিয়া গ্রামের কুলাল পাড়ায় বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে সোনা পালের তিন ছেলে অধীর পাল, পরান পাল ও প্রভাত পাল এবং কামিনী মোহন পালের ছেলে টুন্টু পাল নামে চারজনের বসতঘরেও আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ৪টি বসতঘরের সামনে থেকে কেরোসিন মিশ্রিত বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের টুকরো এলোমেলোভাবে মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার আলামত পায় পুলিশ।
ভুক্তভোগী সাধন বড়ুয়া বলেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। পরিকল্পিতভাবে আমার পরিবারকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।’
৮নং ওয়ার্ডে প্রথমে বিমল তালুকদারের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বের হতে চাইলে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে পাশের বাঁশের বেড়া ভেঙে তারা প্রাণে রক্ষা পান, তবে ঘরটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর পাশের অমল তালুকদারের ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে একটি প্যান্টে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এছাড়া একই এলাকার রুবেল দাশের বসতঘরের দরজা ও জানালা বাইরে থেকে বন্ধ করে অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুনের বিষয়টি টের পেয়ে ঘর থেকে বের হতে গিয়ে দরজা বন্ধ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা টিন কেটে বাইরে বের হন। এ সময় লিটন দাশ নামে একজন আহত হন।
খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী টিপুসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলমান আছে।
খবর পেয়ে চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সিরাজুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নাশকতায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশে উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাবের সুলতান কাজলের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নাশকতার দায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করেন।
রাউজানের সচেতন মহল বলছে, সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ত্রাসের জনপদ হচ্ছে রাউজান। তারা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।