স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
মেট্রোর ভেতর এক নারীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগ ঘিরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, এক নিরাপত্তাকর্মী ওই নারীর অনুমতি ছাড়াই গোপনে ছবি তুলছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে ঘিরে ধরেন অন্য যাত্রীরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে ওই নিরাপত্তাকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, গত শনিবার রাতে দিল্লি মেট্রোর ইয়েলো লাইনের এইআইআইএমএস স্টেশনে ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। পরে রোববার (১৬ আগস্ট) এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মেট্রোর যাত্রীরা কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) সদস্যকে ঘিরে ধরে তার সঙ্গে কথা বলছেন। শুরুতে তিনি ওই নারীর ছবি তোলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ওই নারী ও অন্য যাত্রীরা তার মোবাইল ফোনের ছবি দেখানোর জন্য চাপ দিলে গ্যালারি খুলে দেখা যায়, তিনি সত্যিই ওই নারীর ছবি তুলেছেন।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওই নারী ও সিআইএসএফ সদস্যের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। ভিডিওতে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা কী? আমার ছবি মুছে ফেলুন।’
এ সময় কয়েকজন যাত্রী সিআইএসএফ সদস্যের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি ফোনটি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই অভিযুক্ত সিআইএসএফ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে।
সিআইএসএফের দিল্লি মেট্রো ইউনিট এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, মেট্রোর ভেতরে নারী যাত্রীর সঙ্গে এক সিআইএসএফ সদস্যের কথিত অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
অভিযুক্ত সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় এই বাহিনী।
এদিকে মেট্রো পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, রোববার রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ঘটনাটি জানিয়ে পুলিশের কন্ট্রোল রুমে (পিসিআর) ফোন করা হয়। এক নারীসহ কয়েকজন যাত্রী পুলিশকে জানান, ওই সিআইএসএফ কর্মকর্তা তার অনুমতি ছাড়াই তার ছবি তুলছিলেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ওই নারী কোনও অভিযোগ করেননি। পরে বিষয়টি সিআইএসএফ কর্মকর্তাদের জানানো হয়।