স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার চিত্র গভীর উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির তথ্যানুসারে, এ মাসে মোট ২২০ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৮৭ জন কন্যাশিশু এবং ১৩৩ জন নারী। এই পরিসংখ্যান দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। ৩০শে এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, এপ্রিল মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ৫৮ জন—যার মধ্যে ৩২ জন কন্যা এবং ২৬ জন নারী। এছাড়া দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৭ জন, যার মধ্যে ৮ জন কন্যাশিশু রয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যার মতো নৃশংস ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন, যার মধ্যে একজন কন্যাশিশু।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন ১২ জন, যার মধ্যে ১১ জনই কন্যাশিশু। যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন মোট ১৬ জন—এর মধ্যে ৬ জন কন্যা। এই শ্রেণির মধ্যেই ৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার (৩ জন কন্যা), ৩ জন উত্ত্যক্ততার শিকার (১ জন কন্যা) এবং ৫ জন সাইবার সহিংসতার শিকার (২ জন কন্যা) হয়েছেন। সহিংসতার অন্যান্য রূপও কম উদ্বেগজনক নয়। এপ্রিল মাসে বিভিন্ন কারণে হত্যা করা হয়েছে ৫৭ জনকে, যার মধ্যে ১৬ জন কন্যা ও ৪১ জন নারী। এছাড়া ১৯ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে—যার মধ্যে ৪ জন কন্যাশিশু এবং ১৫ জন নারী। অগ্নিদগ্ধ হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২ জন।
যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতাও অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪ জন, যার মধ্যে ২ জনকে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২ জন। গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে—২ জন নির্যাতনের এবং ২ জন হত্যার শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন করে কন্যাশিশু রয়েছে।
আত্মহত্যার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। এপ্রিল মাসে ১৩ জন আত্মহত্যা করেছেন, যার মধ্যে ৪ জন কন্যাশিশু। এদের মধ্যে ২ জন কন্যা আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হয়েছেন।
অপহরণ ও অপহরণের চেষ্টার ঘটনাও সামনে এসেছে। ৬ জন অপহরণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন (৫ জন কন্যা), এবং আরও ৩ জন কন্যাশিশু পৃথকভাবে অপহরণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন।
শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৪ জন, যার মধ্যে একজন কন্যা রয়েছে। এছাড়া ৭ জন বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ-এর এই প্রতিবেদন স্পষ্টভাবে দেখায় যে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা এখনো মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সহিংসতার বহুমাত্রিক রূপ—ধর্ষণ, হত্যা, যৌতুক, পারিবারিক নির্যাতন, সাইবার সহিংসতা—সব মিলিয়ে একটি গভীর সামাজিক সংকটের প্রতিফলন ঘটছে, যা প্রতিরোধে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন।






