1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব: জামায়াত আমির জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদনে সতর্ক থাকার আহ্বান মার্কিন দূতাবাসের কারাবন্দিদের জন্য ভিডিওকলের সুবিধা, স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ বাল্যবিবাহ নির্মূলে ২৭ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণা করল জাতিসংঘ গাজার ধ্বংসস্তূপে মিলল একই পরিবারের ৫৫ সদস্যের মরদেহ বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধানে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নতুন লুকে সিয়াম, ‘আন্ধার’ সিনেমার টিজার প্রকাশের পর শুরু আলোচনা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত,তেরখাদা নতুন বাসস্ট্যান্ড চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় মনোহরদীতে,অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করল প্রশাসন। 

বিনিয়োগ পতন ৬১%, মব ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় অর্থনৈতিক স্থবিরতা: গভীর সংকটে বেসরকারি খাত

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ১১১ সময় দর্শন

স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট

দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত এখন রুগ্ন অবস্থায় আছে। ইউনূস সরকারের গত দেড় বছরের সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিল্প-ব্যবসা বাণিজ্যে মবের কারণে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ হয়নি। ফলে নতুন সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনার দিকে তাকিয়ে আছেন বিনিয়োগকারীরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে দ্রুত উদ্যোক্তাদের আস্থায় নিতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। দেশের জিডিপিতে বেসরকারি খাতের অবদান ৭৮ থেকে ৮৬ শতাংশ এবং মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৯৫ শতাংশই আসে বেসরকারি এই খাত থেকে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৬.১ শতাংশে গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ সুদহারে ঋণ নিতে হওয়ায় নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ (৩৫.৭৩ শতাংশ), ব্যাংক খাতে আস্থাহীনতা এবং তারল্য সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২২.৪৮ শতাংশে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে। নীতিগত সুদহার অপরিবর্তিত থাকায় ব্যবসায়ীরা ১৬-১৭ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে নতুন যন্ত্রপাতি কেনা বা উৎপাদন সম্প্রসারণ সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কারখানা অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতিতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাস সংকটে উৎপাদনশীলতা ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিও ব্যয় বাড়িয়েছে। ডলার ১২২ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ফলে শিল্প সম্প্রসারণ থমকে গেছে। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ী নেতারা চুপসে বসে আছেন। গত দেড় বছরে চাঁদাবাজি ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। মার্জার আতঙ্ক ও খেলাপি ঋণের উচ্চহার ব্যাংকগুলোকে নতুন ঋণ দিতে অনাগ্রহী করে তুলেছে, যা তারল্য সংকট বাড়িয়েছে। এসব কারণে বিনিয়োগ কমেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর তথ্যে দেখা যায়, এই অস্থিরতায় বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) ৬১.৫৩ শতাংশ কমেছে। ফলে উৎপাদন কমানো, শ্রমিক ছাঁটাই ও নতুন প্রকল্প স্থগিত রাখা এখন অনেক প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার কৌশল। তাছাড়া ইউনূস সরকার গত দেড় বছরে ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি করেছে। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মব করলেও কোনও বিচার করেনি। উল্টো আরো নানাভাবে তাদেরকে মামলা-হামলায় ব্যস্ত রেখেছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-র তথ্য অনুযায়ী, সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে ৩৫৩টি কারখানা বন্ধ হয়েছে; এতে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। শিল্প খাতের এই সংকট উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)-র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ব্যাংকিং সংস্কার প্রয়োজনীয় হলেও প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ১৬ শতাংশ সুদে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা সম্ভব নয়। ইউনূস সরকার কোনও সহযোগিতা করেনি।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)-এর মতে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও ‘মব সংস্কৃতি’ শিল্প খাতে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। নির্বাচিত সরকারের আগমন ইতিবাচক বার্তা দিলেও আস্থা পুনর্গঠনে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা নতুন সরকারের কাছে দ্রুত সহযোগিতা চেয়েছে।

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি) নতুন সরকারের কাছে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো ও নীতিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি এমএসএমই খাতের জন্য জামানতবিহীন অর্থায়ন ও সহজ লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনীতি কঠিন সময় পার করছে বিনিয়োগ হ্রাস ও কর্মসংস্থান কমার ইঙ্গিত স্পষ্ট। সরকারের কর্মসূচির আলোকে বড় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিবছর ২০-২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম মানুষের জন্য বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়ে যাবে। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী করব্যবস্থা সংস্কার, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও আর্থিক খাতে সুশাসন জোরদার করা জরুরি।

অর্থনীতি বিশ্লেষক ড. মামুনুর রশীদের মতে, ব্যাংকঋণের সুদ কমানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, ডলারের বিনিময় হার কিছুটা কমিয়ে আমদানি সহজ করা এবং শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এখন জরুরি। পাশাপাশি যুক্তিসংগত কর প্রশাসন ও দক্ষ বন্দর ব্যবস্থাপনাও প্রয়োজন।

উদ্যোক্তারা আশা করছেন, নতুন সরকারের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও কার্যকর নীতিপদক্ষেপের মাধ্যমে স্থবিরতা কাটবে। অন্যথায় দারিদ্র্য ও বেকারত্বের চাপ আরও বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host