ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ সতর্ক করে বলেছে, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফলাফল নিয়ে বিরোধ বা বিতর্ক দেখা দিলে তা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। সংগঠনটির মতে, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমঝোতার জটিল প্রশ্নগুলো মোকাবেলা করতে হবে সরকারকে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। ২রা ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ক্রাইসিস গ্রুপের এক জরিপ এবং বিশ্লেষণে এশিয়া-প্যাসিফিক বিশেষজ্ঞ থমাস কিয়ান বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে গঠিত ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন। সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করে, জুলাই চার্টারে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর নিয়ে সংস্কারের রোডম্যাপ তৈরি করেছে। কিন্তু এখন নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় সংকটের ছায়া পড়েছে। গ্রুপের মতে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যদি বিরোধ বা অস্বীকৃতি দেখা যায়, তাহলে ইউনূস সরকারের জন্য তা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ, সরকারের বৈধতা এখনো অন্তর্বর্তী, এবং নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সুষ্ঠু না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে জুলাই চার্টারের বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে—বিএনপি চায় নির্বাচনের পর চার্টার বাস্তবায়ন হোক, অন্যান্য দলের চাপ ছিল আগে থেকেই। এই সমঝোতার জটিলতা নির্বাচনের পর আরও বাড়তে পারে।
ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, সরকারের সংস্কারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার অভাব, সহিংসতার আশঙ্কা এবং বহির্বিশ্বের চাপ (যেমন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উত্তেজনা) পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। নির্বাচনের আগে ও পরে সকল পক্ষের সমঝোতা ও সংযম প্রয়োজন, অন্যথায় গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া বিপন্ন হতে পারে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুসারে ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে। বিএনপি সহ বেশিরভাগ দল অংশগ্রহণ করলেও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনকে ‘একপেশে’ বলে সমালোচনা হচ্ছে।
ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভোটের ফলাফল গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ইউনূস সরকারের সামনে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।