ইউনূস সরকারের একের পর এক আশ্বাসের পরও দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট কাটেনি। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও সিলিন্ডার মিলছে না, আবার কোথাও মিললেও সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৫ টাকার ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৬০০ টাকায়।
দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন এখন বিপাকে। সংসারের খরচে পড়েছে টান।
এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর হিসাবে, বর্তমানে দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশই ব্যবহার হচ্ছে শিল্প খাতে। ফলে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স রয়েছে ৫২টি প্রতিষ্ঠানের।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে লোয়াবের জরুরি বৈঠকে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক এলপিজিকে শিল্প কাঁচামাল হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের ঋণ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবে বাজারে কত দ্রুত প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এলপিজি পরিবেশক সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, দু-একদিনের মধ্যেই বোঝা যাবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে কিনা।
এদিকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এ সময় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কম থাকবে। ফলে তিতাসের আওতাধীন আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের গ্রাহকদের গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকবে।
সব মিলিয়ে রমজান সামনে রেখে এলপিজি ও গ্যাস—দুই সংকটই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। আশ্বাসের বাস্তব ফল কবে মিলবে, সেই অপেক্ষায় এখন ভোক্তারা।






