1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন

শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তায় ভারত পুনরুজ্জীবিত করছে ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ৫টি এয়ারস্ট্রিপ

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৩৭ সময় দর্শন

স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক

ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ৫টি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ (বিমানঘাঁটি) পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপটি মূলত পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে অবস্থিত পুরনো বিমানঘাঁটিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে (জানুয়ারি ২০২৬), ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে, যা আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্দেশ্যে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯৪২-১৯৪৫) ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (বিশেষ করে আসাম, ত্রিপুরা ও অবিভক্ত বাংলা) মিত্রবাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও বিমান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই অঞ্চল থেকে জাপানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) অভিযান পরিচালিত হতো। এয়ারস্ট্রিপগুলোতে আমেরিকান B-24 Liberator ও B-29 Superfortress বিমানসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান মোতায়েন ছিল। যুদ্ধের পর এগুলোর অধিকাংশই পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

সুনির্দিষ্টভাবে ৫টি এয়ারস্ট্রিপের নাম সরকারি সূত্রে প্রকাশ না করা হলেও, প্রতিবেদন থেকে জানা যায় এগুলো মূলত নিম্নলিখিত অঞ্চলে অবস্থিত (কিছু ইতিমধ্যে আংশিক চালু বা পরিকল্পনাধীন):

কুচবিহার (Cooch Behar) – পশ্চিমবঙ্গে, ইতিমধ্যে অপারেশনাল।
রূপসি (Rupsi) – আসামের কোকরাঝাড় জেলায়, UDAN স্কিমের অধীনে পুনরুজ্জীবিত এবং বেসামরিক-সামরিক উভয় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
কৈলাশহর (Kailashahar) – ত্রিপুরার উনাকোটি জেলায়, সীমান্তের খুব কাছে (বাংলাদেশের লালমনিরহাটের বিপরীতে), ১৯৭১-এর যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল।
অন্যান্য সম্ভাব্য: হাইলাকান্দি (Hailakandi), দুধকুন্ডি (Dudhkundi) অথবা অনুরূপ WWII যুগের স্ট্রিপ যেগুলো সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ইতিমধ্যে আংশিক কার্যকর, বাকিগুলো সংস্কারাধীন।চালু করার প্রধান কারণসমূহভারত সরকারের এই উদ্যোগের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে:

শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেন’স নেক) নিরাপত্তা

এই সরু ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত ভূখণ্ড উত্তর-পূর্ব ভারতকে মূল ভারতের সাথে যুক্ত করে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে এই করিডর বিচ্ছিন্ন করার হুমকি এবং লালমনিরহাট এয়ারবেস পুনরুজ্জীবনের খবর (চীনা সহায়তায়) ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই এয়ারস্ট্রিপগুলো চালু করলে সামরিক প্রস্তুতি ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।

বাংলাদেশ–চীন কৌশলগত সম্পর্কের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের লালমনিরহাট এয়ারবেস (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন) চীনা সহায়তায় পুনর্নির্মাণের খবর ভারতকে উদ্বিগ্ন করেছে। এটি সীমান্তের ১২-২০ কিমি দূরে অবস্থিত এবং চীনের জন্য সম্ভাব্য সামরিক ফুটহোল্ড তৈরি করতে পারে। ভারত এর জবাবে নিজস্ব ঐতিহাসিক ঘাঁটি সক্রিয় করছে।

আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন

এই এয়ারস্ট্রিপগুলো পুনরুজ্জীবিত করলে দুর্গম উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ বাড়বে। UDAN স্কিমের অধীনে বেসামরিক ফ্লাইট চালু হবে, যা পর্যটন ও বাণিজ্য বাড়াবে।

সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত গভীরতা

এগুলো দ্রুত সেনা, সরঞ্জাম ও বিমান মোতায়েনের জন্য ব্যবহার করা যাবে। সীমান্তে নতুন সেনাঘাঁটি (যেমন চোপড়া, কিশানগঞ্জ, ধুবরি) স্থাপনের সাথে এটি সমন্বিত পদক্ষেপ।

ভারতের এই উদ্যোগকে বিশ্লেষকরা কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। যদিও সরকারি সূত্র বলছে এটি আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির জন্য, তবে বাংলাদেশ সীমান্তের বাস্তবতা এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host