ঐতিহাসিক ‘খাপড়া ওয়ার্ড শহীদ দিবস’ আজ শুক্রবার। ১৯৫০ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসকচক্রের নির্দেশে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ‘খাপড়া ওয়ার্ড’-এ নিরস্ত্র অসহায় রাজবন্দিদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন সাতজন, আহত হন অনেক রাজবন্দি। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে উপর্যুপরি লাঠিচার্জ চালানোয় অনেককেই আজীবন পঙ্গুত্ব বরণও করতে হয়েছিল। সেদিনের ঘটনায় শহীদ হন– দিনাজপুরের কৃষকনেতা কম্পরাম সিংহ, রংপুরের রেলশ্রমিক নেতা সুধীন ধর, রাজশাহীর শ্রমিকনেতা বিজন সেন, কুষ্টিয়ার শ্রমিকনেতা হানিফ শেখ, ময়মনসিংহের ছাত্রনেতা সুখেন্দু ভট্টাচার্য, কুষ্টিয়ার রেলশ্রমিক নেতা দিলওয়ার হোসেন এবং খুলনার ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন।
এটি ছিল সদ্যস্বাধীন একটি দেশের প্রথম জেলহত্যা। ব্রিটিশদের কাছ থেকে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত নব্য পাকিস্তানে পুরোনো পদ্ধতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীরা সরকারের রোষানলে পড়ে কারান্তরীণ হন। কিন্তু কারান্তরালে থেকেও তারা প্রতিবাদের ভাষা অক্ষুণ্ন রাখতে সচেষ্ট থাকেন; যার ধারাবাহিকতায় জেলখানায় সংঘটিত নানা অন্যায়-অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলে সোচ্চার হয়ে ওঠেন তারা। জেলখানায় রাজবন্দির মর্যাদা, প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা এবং অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে জেলের মধ্যেই আন্দোলন শুরু করেন কমিউনিস্ট ও অন্য বন্দিরা। বিভিন্ন জেলের বন্দিরা অনশনও করতে থাকেন।
এ প্রতিবাদের ভাষা যখন কঠোর থেকে কঠোরতর রূপ লাভ করে তখনই শোষক শ্রেণি মরিয়া হয়ে ওঠে। উত্তেজিত ও বেসামাল হয়ে সরকার বন্দিদের ওপর দমন-পীড়নের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। এরই অংশ হিসেবে ১৯৫০ সালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ‘খাপড়া ওয়ার্ড’-এ সোচ্চার কণ্ঠকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে পুলিশ দিয়ে জেলহত্যার মতো জঘন্যতম পথ বেছে নেয় তারা।
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ ‘খাপড়া ওয়ার্ড শহীদ দিবস’ পালিত হবে। বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিবি) এদিন সকালে রাজশাহী কারাগারের অভ্যন্তরে খাপড়া ওয়ার্ড শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বেলা ৩টায় মহানগরের সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে আলোচনা সভার আয়োজন করবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে সিপিবির উদ্যোগে বিকেল ৫টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে মুক্তিভবন মিলনায়তনে আলোচনা সভা হবে।
সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফি রতন এক বিবৃতিতে খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এসব শহীদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান এবং খাপড়া ওয়ার্ডের গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা ও সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।