1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ধানের দাম কম, শ্রমিক সংকট ও বৃষ্টিতে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৫৫ সময় দর্শন

 

মোঃ মাফিকুল ইসলাম, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

উত্তরের শস্যভাণ্ডারখ্যাত দিনাজপুরের পার্বতীপুরে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহে কৃষকের ঘরে স্বস্তি ফেরার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ধানের বাজারমূল্য কমে যাওয়া, তীব্র শ্রমিক সংকট, অতিরিক্ত মজুরি এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে পুরোদমে ধান কাটার কাজ চলছে। বিশেষ করে পিরোজপুর (পাতার) মাঠ, হামিদপুর, হাবড়া ও ১০ নম্বর হরিরামপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাকা ধানের ঢেউ বইছে। তবে হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টিপাত হওয়ায় নিচু জমিগুলোতে পানি জমে ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সময়ে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিক সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

উত্তরা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান প্রামাণিক জানান,
“এবার ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের অভাব আর বৃষ্টির কারণে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। গত বছর যে ধান ১২০০ টাকা মণে বিক্রি করেছি, এবার সেই ধানের দাম ১০০০ থেকে ১০৫০ টাকার মধ্যে। অথচ শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে একজন ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি গুনতে হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। এরপরও প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক জোগাড় করছেন। অনেক ক্ষেত্রে এক মণ ধান বিক্রির টাকাই চলে যাচ্ছে একজন শ্রমিকের মজুরি পরিশোধে।

একই গ্রামের কৃষক তফসির আলী বলেন,
“হালচাষ, সেচ, সার, কীটনাশক—সবকিছুর দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। জমিতে ধান ফলাতে যে খরচ হয়েছে, সেই তুলনায় বাজারদর খুবই কম। এখন দোকানের বাকী ও কৃষিঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, সেটাই বড় চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

কৃষকদের দাবি, গত কয়েক বছরে কৃষি উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও ধানের বাজারমূল্য সেই অনুপাতে বাড়েনি। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং কৃষির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন অনেকেই।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, দ্রুত সরকারি ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হলে বাজারে ধানের দাম কিছুটা বাড়তে পারে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও বলছেন, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকের দুর্ভোগ কমবে না। তাই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host