সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আসিফ মাহমুদ বলেন, “ডিপ স্টেট আমাদের ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল।” এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান যে, আন্দোলনের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে ডিপ স্টেটের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের পরামর্শ ও নির্দেশনা মেনেই ছাত্রদের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ড ইউনুস ডিপ স্টেটের নির্বাচিত লোক ছিলেন, এ কথা অনেকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত আছে। আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার এই স্বীকারোক্তি ডিপ স্টেটের সাথে ড ইউনুসের সংযুক্ত থাকার সন্দেহকে আরও জোরালো করছে।
তিনি বলেন, “আন্দোলনের শুরু থেকেই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, এটি শুধু ছাত্রদের নিজস্ব উদ্যোগ নয়। ডিপ স্টেটের সহায়তা ও গাইডলাইন ছাড়া এত বড় আন্দোলন সফল করা সম্ভব ছিল না। আমরা তাদের সাথে যোগাযোগ রেখে কাজ করেছি।”
এই স্বীকারোক্তি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে জুলাই আন্দোলনের ‘পিছনের শক্তি’ নিয়ে দীর্ঘদিনের সন্দেহের নিশ্চিতকরণ হিসেবে দেখছেন। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এর আগেও অভিযোগ করেছিল যে, ছাত্র আন্দোলনের পেছনে দেশি-বিদেশি অদৃশ্য শক্তির হাত ছিল। আসিফ মাহমুদের এই বক্তব্য সেই অভিযোগকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
এদিকে, এনসিপির নেতৃত্বাধীন ছাত্র সংগঠনের অনেক সদস্য এই স্বীকারোক্তিতে বিস্মিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করছেন, আন্দোলনকে ‘জনগণের আন্দোলন’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে এটি ডিপ স্টেটের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
আসিফ মাহমুদের এই বক্তব্যের পর বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে। অনেকে দাবি করছেন, এখন সময় এসেছে পুরো জুলাই-আগস্ট ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের।
এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য ও প্রতিক্রিয়া জানতে দেশের রাজনৈতিক মহল সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।






