1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ন

মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব বিবেক নাড়িয়ে দেওয়া আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৮ সময় দর্শন

অনলাইন ডেস্ক

ফটোগ্রাফি বিশ্ব হারিয়েছে এক অসামান্য দৃশ্যকল্পের স্রষ্টাকে। রোববার দিল্লিতে ৮৩ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রাই; যাঁকে ভারতীয় ফটোগ্রাফির জনক ও ভারতীয় ফটোসাংবাদিকতার পথিকৃৎ আখ্যায়িত করা হয়। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে যিনি ক্যামেরা মানুষের আনন্দ, বেদনা ও বৈপরীত্যকে অনন্য সংবেদনশীলতায় তুলে এনেছেন।

রঘুর রাইয়ের পুত্র নীতিন রাই জানিয়েছেন, তাঁর পিতা প্রোস্টেট ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন, চিকিৎসার পরও তা ছড়িয়ে পড়ে এবং বার্ধক্যজনিত জটিলতায় শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। আজ ২৬শে এপ্রিল, রোববার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির লোধি রোড শ্মশানে রঘু রাইয়ের শেষকৃত্য হবে।

রঘু রাই ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, মৃত্যুর আগে তিনি নয়াদিল্লিতে বসবাস করছিলেন এবং নিজের ৫৭তম বই নিয়ে কাজ করছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আলোকচিত্র জগতে এক যুগের অবসান ঘটল।

বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রী অঁরি কার্তিয়ে-ব্রেসোঁ-এর শিষ্য ছিলেন রঘু রাই। তাঁরই সুপারিশে ১৯৭৭ সালে রাই যোগ দেন আন্তর্জাতিক সংস্থা ম্যাগনাম ফটোসে। তিনি অসংখ্য গ্রন্থ প্রকাশ করেন এবং তাঁর ছবি প্রকাশিত হয়েছে টাইম, লাইফ, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ও দ্য নিউ ইয়র্কার-এর মতো আন্তর্জাতিক মাধ্যমে।

ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার মর্মান্তিক ছবি, বিশেষত অর্ধখোলা চোখের এক শিশুর দেহ, বিশ্বজুড়ে নাড়া দিয়েছিল। এছাড়া ইন্দিরা গান্ধী, মাদার টেরেসা এবং বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধর ওপর তাঁর কাজ আধুনিক ভারতীয় ইতিহাসের অমূল্য দলিল হয়ে রয়েছে।

তবে বাঙালি ও বাংলাদেশিদের কাছে রঘু রাইয়ের নাম চিরভাস্মর হয়ে রয়েছে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধর সময় তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অসামান্য সব ছবি তুলে তা দিয়ে বিশ্ববাসীর বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন রঘু রাই।

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সে সময় ভারতে আশ্রয় নেওয়া লাখো বাংলাদেশি শরণার্থীর চরম মানবিক সংকটের দৃশ্য রঘু রাইয়ের ক্যামেরাই উঠে এসেছিল। তাঁর তোলা মুক্তিযুদ্ধের ছবি ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্ত সেই সময় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নাড়া দেয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শরণার্থীদের নিয়ে অসামান্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ পদকে ভূষিত করে।

১৯৪২ সালের ডিসেম্বরে জন্মগ্রহণ করা রঘু রাই পেশায় একজন পুরকৌশলী (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার) হলেও মাত্র ২৩ বছর বয়সে বড় ভাইয়ের হাত ধরে আলোকচিত্র জগতে প্রবেশ করেন।

এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকার প্রধান আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করেন। এরপর কলকাতার সাপ্তাহিক ‘সানডে’ ম্যাগাজিনের পিকচার এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রঘু রাই বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফটোগ্রাফিক সমবায় ‘ম্যাগনাম ফটোজ’-এর সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ভারতের শীর্ষস্থানীয় নিউজ ম্যাগাজিন ‘ইন্ডিয়া টুডে’র পিকচার এডিটর হিসেবে কাজ করেন।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, দলাই লামা, মাদার তেরেসা, সত্যজিৎ রায়দের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের জীবন তাঁর ক্যামেরাতেই দারুণভাবে মূর্ত হয়েছিল।

রঘু রাইয়ের তোলা ছবি টাইম, লাইফ, জিও, লে ফিগারো, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, নিউজউইক, দ্য নিউইয়র্কার, ভোগের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সব পত্রপত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host