আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য দারুণ সুখবর দিচ্ছে ফিফা। ৪৮টি দলের জন্য পুরস্কারের অর্থ বা প্রাইজমানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। গত রবিবার বিশ্ব ফুটবলের এই অভিভাবক সংস্থা জানিয়েছে, এই বিষয়ে তারা বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
ভ্যাঙ্কুভারে ফিফার ৭৬তম কংগ্রেসের আগে মঙ্গলবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানেই এই বাড়তি প্রাইজমানির প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।
আয়ের লক্ষ্যমাত্রা যখন আকাশছোঁয়া ফিফা মূলত তাদের বিশাল আয়ের ওপর ভিত্তি করেই এই প্রাইজমানি বাড়ানোর সাহসী পদক্ষেপ নিচ্ছে। সংস্থাটির ধারণা, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের এই বর্তমান চক্রে তাদের মোট আয় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এর আগে গত ডিসেম্বরে তারা প্রাইজমানি ৫০ শতাংশ বাড়ানোর আভাস দিয়েছিল, কিন্তু বর্তমান আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় সেই অঙ্ক আরও বড় হতে পারে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে ফিফা।
তহবিল বন্টনের খসড়া পরিকল্পনা প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রাইজমানির একটি বড় অংশ পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হবে। এর আগের ঘোষণা অনুযায়ী:
-
চ্যাম্পিয়ন দল: ৫ কোটি ডলার।
-
রানার্স-আপ: ৩ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার।
-
গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ী দল: ৯০ লক্ষ ডলার।
-
প্রস্তুতি খরচ: প্রতিটি দেশ পাবে ১৫ লক্ষ ডলার।
ফিফার একজন মুখপাত্রের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবলের আর্থিক ইতিহাসে একটি ‘যুগান্তকারী’ আসর হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ‘ফিফা ফরওয়ার্ড’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নেও বাড়তি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
সাফল্যের পেছনে ক্লাব বিশ্বকাপ গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ৩২ দলের ক্লাব বিশ্বকাপের বিশাল সাফল্য ফিফাকে অর্থনৈতিকভাবে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে। ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফার নির্ধারিত আয়ের লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশই ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ফুটবল মহাযজ্ঞ। এবারের বিশ্বকাপে মোস্তাফিজুর রহমান-এর মতো অগণিত ফুটবল ভক্তদের নজর থাকবে বিশ্বমঞ্চের এই নতুন আর্থিক ও ক্রীড়া উন্মাদনার দিকে।






