গতকাল মঙ্গলবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফার বিশেষ কাউন্সিলের বৈঠকে হলুদ কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা যে কমার সিদ্ধান্ত আসবে, সেটা অনুমিতই ছিল। এখন থেকে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব শেষে একবার, ও কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আরেকবার হলুদ কার্ড মুছে যাবে। ফলে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দুই হলুদ কার্ড দেখলে এক ম্যাচ নিষিদ্ধের যে ফারা ছিল, সেটা অনেকটাই শিথিল হলো। হলুদ কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা কমার পাশাপাশি লালকার্ড নিয়ে ফিফার প্রস্তাবিত দুটি আইনের অনুমোদন দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)।
এখন থেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের সময় মুখে ঢেকে কথা বললেই লাল কার্ড দেখতে পারেন খেলোয়াড়। এছাড়া রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠ ছেড়ে গেলেও দেখতে পারেন লাল কার্ড।
আইএফএবি জানিয়েছে, এ দুটি পরিবর্তন ‘কম্পিটিশন অপ্ট-ইন’ হিসেবে অনুমোদিত হয়েছে। আর ফিফা নিশ্চিত করেছে, আসন্ন বিশ্বকাপেই এ দুটি নিয়ম কার্যকর হবে। মুখ ঢেকে কথা বলার বিষয়টি আলোচনায় আসে গত ফেব্রুয়ারিতে। চ্যাম্পিয়নস লিগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন উইঙ্গার ইয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রেয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে কিছু একটা বলেন। ওই ঘটনায় সে সময় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। শুরুতে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে প্রেস্তিয়ান্নিকে এক ম্যাচের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে উয়েফার তদন্তে বেরিয়ে আসে, ভিনিকে লক্ষ্য করে সমাকামী-বিদ্বেষী মন্তব্য করেন প্রেস্তিয়ান্নি। আর সে জন্য আর্জেন্টাইন তারকাকে ছয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে উয়েফা। এর মধ্য তিনটি ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে আইএফএবির বার্ষিক সভাতেও আলোচনা হয়েছিল। পরে ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কাউন্সিল বৈঠকের আগে আবারও আলোচনায় আনা হয়। আর গতকাল সেটা অনুমোদন পায়। তবে কোনো খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেওয়া হবে কি না, সেটার সিদ্ধান্ত নেওয়া পুরো ক্ষমতা রেফারির। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। মুখ ঢেকে মন্তব্য করায় লাল কার্ডের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন ফিফা সভাসতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেছেন, ‘যদি কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে কিছু বলে এবং সেটার ফলে বর্ণবাদী প্রভাব তৈরি হয়, তাহলে অবশ্যই তাকে মাঠ থেকে বের করে দিতে হবে।’ ফিফা প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ধরে নেওয়া হবে, (মুখ ঢেকে বললে) সে এমন কিছু বলেছে, যা বলা উচিত নয়— নইলে সে মুখ ঢাকত না। সহজ হিসাব হচ্ছে, আপনার লুকানোর কিছু না থাকলে, কথা বলার সময় মুখ ঢাকবেন না।’
অন্যদিকে মাঠ ছাড়ার ব্যাপারে লাল কার্ডের বিষয়টি মূলত আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিয়েছে ফিফা। গত ফেব্রুয়ারির ওই মরক্কো-সেনেগাল ফাইনালে রেফারির এক সিদ্ধান্তে মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন সেনেগালের ফুটবলাররা। পরে তারা মাঠে ফিরলে পেনাল্টি মিস করে মরক্কো। আর অতিরিক্ত সময়ে একটি গোল করে ১-০ ব্যবধানে আফকন শিরোপা জেতে সেনেগাল। পরবর্তীতে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (ক্যাফ) সেনেগালের শিরোপা বাতিল করে মরক্কোকে ৩-০ হিসেবে জয়ী ঘোষণা করে। এমন ঘটনায় শুধু খেলোয়াড়ই নন, দলীয় কর্মকর্তারাও এখন থেকে লাল কার্ড দেখতে পারেন। যদি খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে উসকানি দেন তারা।






