1. admin@shwapnoprotidin.com : শাহীন স্বাধীন : শাহীন স্বাধীন শাহীন স্বাধীন
  2. shwapnotvbd@gmail.com : স্বপ্ন প্রতিদিন : স্বপ্ন প্রতিদিন প্রতিবেদন
  3. saif@gmail.com : এস. এম. সাইফ : এস. এম. সাইফ
পুলিশের চোখে ‘ধুলো’, আদালতের বারান্দায় খুনিরা: চট্টগ্রামের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাটকীয় জামিন - স্বপ্ন প্রতিদিন
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন

পুলিশের চোখে ‘ধুলো’, আদালতের বারান্দায় খুনিরা: চট্টগ্রামের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাটকীয় জামিন

প্রতিবেদকের নামঃ শাহীন স্বাধীন
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০৯ সময় দর্শন

স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট

যাদের খুঁজতে পুলিশ পুরো শহর চষে ফেলার দাবি করছে, যারা প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি চালিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতে দ্বিধা করে না—সেই দুর্ধর্ষ দুই ‘সন্ত্রাসী’ মোবারক ও বোরহান এখন জামিনে মুক্ত।

চট্টগ্রামের ত্রাস হিসেবে পরিচিত বিদেশে পলাতক শিবিরের কিলার ‘বড় সাজ্জাদ’-এর দুই বিশ্বস্ত অনুচর পুলিশের নাগাল এড়িয়ে কীভাবে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়ে গেলেন, তা নিয়ে খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে।

‘পলাতক’ বনাম ‘হাজির’: রহস্য কোথায়?

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ বলছে, তারা আসামিদের হন্যে হয়ে খুঁজছেন। অথচ গত ১লা ফেব্রুয়ারি আসামিরা সশরীরে উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে ৬ সপ্তাহের জামিন নিয়ে যান।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, জামিনের এই আদেশ বাকলিয়া থানায় পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় দুই মাস!

গত ২৯শে মার্চ জামিনের কাগজ হাতে পাওয়ার পর যেন আকাশ থেকে পড়েছে পুলিশ। প্রশ্ন উঠেছে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে আসামিরা কীভাবে নির্বিঘ্নে আদালতে যাতায়াত করলেন?

যে খুনের দায়ে অভিযুক্ত তারা

২০২৫ সালের ৩০শে মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ঘটে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনা। প্রাইভেট কারে থাকা বখতিয়ার ও আবদুল্লাহকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় সাজ্জাদ বাহিনী। এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর ছিল মোবারক ও বোরহান। শুধু তাই নয় এমপির মিছিলে রক্তপাত।

সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণায় গুলিবর্ষণ করে সরোয়ার হোসেনকে হত্যা করা হয়, যেখানে এমপি নিজেও আহত হন।

কোটি টাকার চাঁদাবাজি: স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যানের বাসায় দুই দফায় গুলিবর্ষণের নেপথ্যেও এই চক্রটি জড়িত বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

সাজ্জাদের সহযোগী মোবারকের মোবাইল ফোন ও সামাজিক মাধ্যমে ১৫-২০টি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দাপিয়ে বেড়ানোর ছবি পুলিশের হাতে রয়েছে। পেশাদার খুনি ও মোটরসাইকেল ভাড়া করে মিশনে নামাই তার মূল কাজ।

অন্যদিকে বোরহানের বিরুদ্ধে আটটি মামলা থাকা সত্ত্বেও সে কীভাবে ‘ফেরারি’ তকমা নিয়ে জামিন পেল, তা নিয়ে আইনজীবীদের মাঝেও বিস্ময় কাটছে না।

ক্ষুব্ধ আইনজীবী ও অসহায় রাষ্ট্রপক্ষ

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তারের সাফ কথা—এটি পুলিশের গোয়েন্দা ব্যর্থতা। পুলিশ যখন আসামিকে ‘খুঁজে পাচ্ছে না’ বলে হাত গুটিয়ে থাকে, তখনই দুর্ধর্ষ অপরাধীরা আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে বের হওয়ার সুযোগ পায়।

মহানগর পিপি মফিজুল হক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষ এখন আইনি লড়াই চালিয়ে এই জামিন বাতিলের চেষ্টা করবে।

পুলিশের ‘খুঁজে না পাওয়ার’ গল্প আর অপরাধীদের আদালতে ‘উঁকি দেওয়ার’ এই লুকোচুরি খেলায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে। যে হাতগুলো আজ হ্যান্ডকাফ পরার কথা ছিল, সেই হাতগুলোই এখন জামিনের কাগজ উঁচিয়ে পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

Author

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host