স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক »
রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জের রাজপথ। অব্যাহত বিচারহীনতা ও নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে গোপালগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, গোপালগঞ্জ জেলা শাখা।
২৮ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে এবং বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে সর্বস্তরের নারী-পুরুষ, তরুণ ও বয়োবৃদ্ধরা একাত্মতা প্রকাশ করেন। প্রতিবাদকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “খুনিদের দ্রুত ফাঁসি চাই, দিতে হবে”।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি বিজন চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি লিটন কুমার মন্ডল।
আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমরা এক গভীর শোক ও ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে এখানে সমবেত হয়েছি। দেশে যখনই গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়, তখনই একটি কুচক্রী মহল হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের চার সদস্যকে যেভাবে নির্মম নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে এবং কৃষ্ণ দাসকে যেভাবে জীবন্ত ঝুলিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। গত পাঁচ মাসে বেছে বেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর এমন অসংখ্য হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে।”
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন বাংলাদেশ আমাদের সবার। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিয়ে বাস করার কথা এ দেশে। আমরা এই দেশকে ভালোবাসি, তাই নিজ জন্মভূমি ছেড়ে কোথাও যেতে চাই না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আপনারা কোনো নাটক করবেন না। নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং প্রকৃত দোষীদের যেন কোনো ছাড় দেওয়া না হয়। আমরা আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি।”
সমাবেশে গোপালগঞ্জ জেলা যুব মহাজোটের সভাপতি বিনয় বিশ্বাস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মহানন্দ বালা বক্তব্য দেন। তাঁরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অনতিবিলম্বে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
সমাবেশ শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। রংপুরের সেই রক্তাক্ত বাড়ির স্বজনহারা আর্তনাদ আজ গোপালগঞ্জের রাজপথে প্রতিধ্বনিত হয়ে ন্যায়বিচারের এক জোরালো দাবি তুলে ধরেছে।